প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট উপবৃত্তি শাখা ২০২৬ এর এককালীন জরুরি আর্থিক সহায়তার আবেদন সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য নিচে তুলে ধরা হলো।
প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের আওতায় বর্তমানে মাধ্যমিক থেকে শুরু করে স্নাতক ও সমমান পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য এককালীন জরুরি আর্থিক সহায়তার আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে। এটি মূলত ৬ষ্ঠ থেকে স্নাতক পর্যায়ের সেইসব শিক্ষার্থীদের জন্য যারা দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত কিংবা অত্যন্ত অসহায় এবং দরিদ্র অথচ মেধাবী। ব্যবস্থাপনা পরিচালক-এর জরুরি তহবিল পরিচালন নির্দেশিকা ২০২০ এর আলোকে এই কার্যক্রমটি পরিচালিত হয়। বর্তমানে ট্রাস্টের নির্ধারিত আবেদন ফরমটি সংশোধন করার কাজ চলমান থাকার কারণে পুরাতন ফরমের মাধ্যমে আবেদন গ্রহণ সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে। তাই গত ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখ থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে আবেদন করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।
যোগ্যতা
আবেদন করার ক্ষেত্রে একজন শিক্ষার্থীকে অবশ্যই নির্দিষ্ট কিছু মানদণ্ড পূরণ করতে হবে যার মধ্যে অন্যতম হলো মেধাক্রম। এক্ষেত্রে শিক্ষার্থীকে তার পূর্বের শ্রেণিতে ন্যূনতম ৬০ শতাংশ নম্বর অথবা সমমানের জিপিএ ৩.০০ প্রাপ্ত হয়ে উত্তীর্ণ হতে হবে। আবেদনের মূল চিঠিতে ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট বরাবর প্রয়োজনীয় তথ্যাদি উল্লেখ করে আবেদন করতে হবে এবং এটি ধানমন্ডির নির্ধারিত ঠিকানায় প্রেরণ করতে হবে। এই সহায়তার মূল উদ্দেশ্য হলো মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং আপৎকালীন সময়ে তাদের পাশে দাঁড়ানো।
ডকুমেন্ট
আবেদনের সাথে একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ নথি সংযুক্ত করা বাধ্যতামূলক যা প্রার্থীর সত্যতা ও যোগ্যতার প্রমাণ হিসেবে কাজ করবে। প্রথমেই শিক্ষার্থীর সদ্যতোলা এক কপি পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি এবং জন্মনিবন্ধন সনদের ফটোকপি দিতে হবে। শিক্ষার্থীর জাতীয় পরিচয়পত্র থাকলে তার কপিও প্রদান করা বাঞ্ছনীয়। শিক্ষার্থীর পাশাপাশি তার পিতা ও মাতার জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপিও আবশ্যিকভাবে যুক্ত করতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে একটি প্রত্যয়নপত্র সংগ্রহ করতে হবে যা প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব প্যাডে লেখা হতে হবে এবং সেখানে প্রতিষ্ঠানের ইআইআইএন (EIIN) নম্বর থাকা আবশ্যক।
আর্থিক সচ্ছলতা
আর্থিক লেনদেনের স্বচ্ছতার জন্য শিক্ষার্থী অথবা তার পিতা-মাতার ব্যাংক হিসাবের পূর্ণাঙ্গ তথ্য ও স্টেটমেন্টের কপি আবেদনের সাথে যুক্ত করতে হবে। এই তথ্যের মধ্যে ব্যাংক হিসাবের নাম, নম্বর, ব্যাংকের নাম, শাখা এবং সংশ্লিষ্ট শাখার রাউটিং নম্বর স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে হবে। যদি কোনো শিক্ষার্থী দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয় তবে তার সপক্ষে চিকিৎসাপত্রের ফটোকপি জমা দিতে হবে। দরিদ্র ও অসহায়ত্বের প্রমাণ হিসেবে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বা ওয়ার্ড কাউন্সিলর অথবা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানের কাছ থেকে প্রাপ্ত প্রত্যয়নপত্র সংযুক্ত করতে হবে।
কাগজপত্র
বিশেষ কিছু শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত প্রমাণক প্রয়োজন হতে পারে। যেমন এতিম শিক্ষার্থী, ভূমিহীন পরিবারের সন্তান, বীর মুক্তিযোদ্ধার অসচ্ছল সন্তান কিংবা প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে যথাযথ কর্তৃপক্ষের সনদ বা প্রমাণকের কপি জমা দিতে হবে। সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ১৩ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের সন্তানদের ক্ষেত্রে তাদের অভিভাবকের বেতনের গ্রেড সংক্রান্ত একটি অফিস প্রত্যয়নপত্র আবেদনের সাথে সংযুক্ত করা প্রয়োজন।
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
প্রশ্ন: আবেদনের শেষ তারিখ কবে?
উত্তর: বিজ্ঞপ্তিতে ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে আবেদন শুরু করার কথা বলা হলেও এটি পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত চলমান থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
প্রশ্ন: আমি কি অনলাইনে আবেদন করতে পারব?
উত্তর: না, বর্তমানে অনলাইন ফরম সংশোধন কার্যক্রম চলমান থাকায় শুধুমাত্র ম্যানুয়াল বা সরাসরি আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে।
প্রশ্ন: কত জিপিএ থাকলে আবেদন করা যাবে?
উত্তর: পূর্বের পরীক্ষায় ন্যূনতম জিপিএ ৩.০০ অথবা ৬০ শতাংশ নম্বর প্রাপ্ত শিক্ষার্থীরাই এই সহায়তার জন্য আবেদন করতে পারবেন।
প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট এককালীন অনুদান ২০২৬, উপবৃত্তি আবেদন ম্যানুয়াল পদ্ধতি, মেধাবী শিক্ষার্থীদের আর্থিক সাহায্য, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা ট্রাস্ট ধানমন্ডি, দরিদ্র শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা অনুদান PMEAT One Time Financial Aid 2026, Prime Minister Education Assistance Trust Stipend, Manual Application PMEAT, Financial Support for Meritorious Students, Education Trust Grant Guidelines 2026.



