Bangladesh bank ad সার্কুলার বুক লিস্ট ৩ মাসে পাস করার সাজেশন

Bangladesh bank ad সহকারী পরিচালক এই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিটা বেশ বড় এবং গুরুত্বপূর্ণ, তাই আমরা সরাসরি কাজের কথায় আসি। বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী পরিচালক (AD) পদটা অনেকের কাছেই স্বপ্নের মতো। ১০ বছর এই সেক্টরে থাকার সুবাদে আমি এই সার্কুলারটা যেভাবে দেখছি, সেটা তোমাদের সাথে একদম সহজ করে শেয়ার করছি।

বাংলাদেশ ব্যাংক এডি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির আদ্যোপান্ত

সবার আগে পদের নাম আর বেতনটা দেখে নাও। পদের নাম হলো সহকারী পরিচালক (জেনারেল)। এটা নবম গ্রেডের একটা চাকরি। শুরুতেই তোমার মূল বেতন হবে ২২,০০০ টাকা থেকে শুরু করে ৫৩,০৬০ টাকার স্কেলে। এর সাথে সরকারি সব সুযোগ-সুবিধা তো আছেই। বাংলাদেশ ব্যাংকের লাইফস্টাইল কিন্তু একটু অন্যরকম, যারা কর্পোরেট এবং সরকারি আমেজ দুইটাই একসাথে চাও, তাদের জন্য এটা সেরা সুযোগ।

 

আবেদনের যোগ্যতা: কার জন্য এই সুযোগ?

এখানে শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে অনেকের মনে খটকা থাকে। সহজ করে বললে:

১. তোমার যেকোনো অনুমোদিত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চার বছর মেয়াদী স্নাতক (অনার্স) থাকতে হবে অথবা স্নাতকসহ স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) থাকতে হবে।

২. একটা শর্ত খুব কড়া—শিক্ষা জীবনের কোনো পর্যায়েই তৃতীয় বিভাগ বা শ্রেণী গ্রহণযোগ্য হবে না। তোমার যদি সিজিপিএ স্কেল হয়, তবে সেই কনভার্সন টেবিলটা সার্কুলারে দেয়া আছে। ৪.০০ পয়েন্ট স্কেলে কমপক্ষে ২.২৫ এবং ৫.০০ পয়েন্ট স্কেলে কমপক্ষে ৩.০০ পেতে হবে। এসএসসি বা এইচএসসির ক্ষেত্রে ৩.০০ এর নিচে থাকলে তুমি আবেদন করতে পারছ না।

 

বয়সসীমা নিয়ে কথা

বয়সটা ধরা হয়েছে ০১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে সর্বোচ্চ ৩০ বছর। তবে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বা প্রতিবন্ধী কোটায় থাকলে সেটা ৩২ বছর পর্যন্ত শিথিলযোগ্য। সাধারণ প্রার্থীদের জন্য জন্ম তারিখ হতে হবে ০২ ডিসেম্বর ১৯৯৫ থেকে ২৭ এপ্রিল ২০০৫ এর মধ্যে। এই রেঞ্জের বাইরে হলে সিস্টেম তোমার আবেদন নেবে না।

 

আবেদনের পদ্ধতি ও সময়সীমা

আবেদন করতে হবে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব ই-রিক্রুটমেন্ট ওয়েবসাইট (erecruitment.bb.org.bd) এর মাধ্যমে। আবেদন শুরু হয়েছে ৩০ মার্চ ২০২৬ থেকে এবং চলবে ২৭ এপ্রিল ২০২৬ রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত। আমার সাজেশন থাকবে শেষের দিনের জন্য বসে থেকো না। কারণ শেষের দিকে সার্ভার খুব বিজি হয়ে যায়।

 

আরেকটা নতুন বিষয় খেয়াল করেছ কি? এবার ফি জমা দিতে হবে Bangla QR কোডের মাধ্যমে। যেকোনো ব্যাংক অ্যাপ বা এমএফএস (বিকাশ, নগদ ইত্যাদি) দিয়ে স্ক্যান করে ২০০ টাকা জমা দিতে হবে। পেমেন্ট করার পর একটা ট্র্যাকিং পেজ আসবে, ওটা খুব সাবধানে সেভ করে রাখবে। কারণ ওটা ছাড়া পরে প্রবেশপত্র ডাউনলোড করা যাবে না।

 

পরীক্ষার ধাপগুলো কেমন হবে?

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরীক্ষা সাধারণত তিন ধাপে হয়—প্রিলিমিনারি, লিখিত এবং ভাইভা।

 

প্রিলি: এমসিকিউ টাইপ পরীক্ষা। সাধারণত বাংলা, ইংরেজি, গণিত, সাধারণ জ্ঞান এবং আইটি থেকে প্রশ্ন আসে।

 

লিখিত: এটা সবচেয়ে বড় বাধা। এখানে ইংরেজি এবং বাংলার ফোকাস রাইটিং, অনুবাদ এবং ম্যাথ থাকে।

 

ভাইভা: এখানে তোমার ব্যক্তিত্ব এবং সাবজেক্টিভ নলেজ যাচাই করা হয়।

 

কিছু সাধারণ প্রশ্নের উত্তর (FAQs)

১. ভাইয়া, আমার রেজাল্ট এখনো বের হয়নি, আমি কি আবেদন করতে পারব?

সার্কুলারে স্পষ্ট বলা আছে, ২৭ এপ্রিল ২০২৬ তারিখের মধ্যে তোমার স্নাতক বা স্নাতকোত্তরের সব পরীক্ষা শেষ হতে হবে এবং ফলাফল প্রকাশিত হতে হবে। যদি রেজাল্ট না বের হয়, তবে তুমি এলিজিবল নও।

 

২. সিজিপিএ কনভার্সন নিয়ে ঝামেলা হচ্ছে, কী করব?

সার্কুলারের দ্বিতীয় পাতায় একটা চার্ট আছে। ওটা ভালো করে দেখো। ও লেভেল বা এ লেভেল হলে ইকুভ্যালেন্স সার্টিফিকেট লাগবেই। ওটা আগে ম্যানেজ করে নাও।

 

৩. আগের বার ট্র্যাকিং আইডি হারিয়ে ফেলেছিলাম, এবার কী করব?

পেমেন্ট ভেরিফিকেশনের পর সাথে সাথে ট্র্যাকিং পেজ ডাউনলোড করে গুগল ড্রাইভে বা নিজের মেইলে পাঠিয়ে রাখো। এটা পরে খুব জ্বালানো বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।

 

৪. ছবিতে কোনো স্পেশাল ইনস্ট্রাকশন আছে?

হ্যাঁ, ছবি এবং স্বাক্ষর হতে হবে একদম সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডে। ফর্মাল ড্রেসে ছবি তুললে ভালো। স্ক্যান করা ছবি ঝাপসা হলে অনেক সময় আবেদন বাতিল হতে পারে।

 

এই ছিল সার্কুলারের মূল বিষয়গুলো। আমি এখানে ১০ বছর কাটানোর পর একটা জিনিস বুঝেছি, বাংলাদেশ ব্যাংক শুধু পড়াশোনা দেখে না, দেখে তোমার ধৈর্য আর লজিক্যাল সেন্স

পার্ট ১-এ তো আমরা সার্কুলার নিয়ে বিস্তারিত জানলাম। এবার আসি আসল যুদ্ধে নামার রসদ নিয়ে। বাংলাদেশ ব্যাংকের AD পরীক্ষা মানেই একটু অন্যরকম লেভেলের খেলা। এখানে শুধু মুখস্থ বিদ্যা দিয়ে পার পাওয়া কঠিন, আবার টেকনিক না জানলে সারাদিন পড়েও লাভ নেই। ১০ বছরের অভিজ্ঞতায় আমি দেখেছি, যারা চান্স পায় তারা খুব গোছানো কিছু বই পড়ে। হাবিজাবি দশটা বই না পড়ে স্ট্যান্ডার্ড কয়েকটা বই বারবার শেষ করাটাই হলো আসল সিক্রেট।

 

বুক লিস্ট বা প্রস্তুতির সেরা রসদ

 

এই পরীক্ষাটার সিলেবাস অনেকটা মহাসাগরের মতো। তবে একে আয়ত্তে আনতে হলে আমাদের বিষয়ভিত্তিক ভাগ করে এগোতে হবে। নিচে আমি একটা লিস্ট দিচ্ছি যা প্রিলি এবং লিখিত—উভয় ক্ষেত্রেই তোমাকে সাহায্য করবে।

 

১. বাংলা (সাহিত্য ও ব্যাকরণ)

ব্যাংকের পরীক্ষায় বাংলা ব্যাকরণে জোর দেওয়া হয় বেশি। বিশেষ করে শব্দভাণ্ডার, শুদ্ধিকরণ এবং পারিভাষিক শব্দ।

বোর্ড বই: নবম-দশম শ্রেণীর পুরনো ‘মুনীর চৌধুরী’র ব্যাকরণ বইটা তোমার বাইবেল। ওটা একদম ঠোঁটস্থ থাকতে হবে।

প্রয়োগ-অপপ্রয়োগ: হায়াৎ মামুদের ‘ভাষা শিক্ষা’ বইটা দেখতে পারো শুদ্ধিকরণের জন্য।

সাহিত্য: সৌমিত্র শেখরের ‘জিজ্ঞাসা’ বা লাল-নীল দীপাবলি। তবে ব্যাংকের জন্য সাহিত্যের চেয়ে ব্যাকরণে সময় বেশি দেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।

 

২. ইংরেজি (ভোকাবুলারি ও গ্রামার)

এখানেই মূলত ছাঁটাই প্রক্রিয়া শুরু হয়। ইংরেজিতে দখল না থাকলে বাংলাদেশ ব্যাংক স্বপ্নই থেকে যাবে।

ভোকাবুলারি: ‘Word Power Made Easy’ (Norman Lewis) বইটা একটু সময় নিয়ে পড়ো। আর প্র্যাকটিসের জন্য ‘Saifur’s Competitive Vocabulary’ বা যেকোনো ভালো ভোকাবুলারি ব্যাংক।

গ্রামার: Barron’s SAT’ বা ‘Cliffs TOEFL’ এর গ্রামার অংশটুকু পড়লে ব্যাংকের প্যাটার্ন ধরা সহজ হবে। দেশি বইয়ের মধ্যে ‘English for Competitive Exams’ (Fazlul Haque) খুব কাজের।

নিউজপেপার: নিয়মিত ‘The Daily Star’ পড়ার অভ্যাস করো। এটা তোমার প্রিলির ভোকাবুলারি আর রিটেনের ফোকাস রাইটিং—দুটোতেই ম্যাজিকের মতো কাজ করবে।

 

৩. গণিত (ম্যাথ)

বাংলাদেশ ব্যাংকের ম্যাথ মানেই হলো আর্টস আর কমার্সের স্টুডেন্টদের জন্য ভয়ের কারণ। কিন্তু মনে রাখবে, প্র্যাকটিস করলে এটাও সহজ।

বেসিক: ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণীর বোর্ড বইয়ের পাটিগণিত আর বীজগণিত। বিশেষ করে নবম-দশম শ্রেণীর সাধারণ গণিত।

ব্যাংক স্পেশাল: ‘Official GMAT Review’ এর ম্যাথগুলো সমাধান করো। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রশ্ন অনেক সময় এখান থেকে অনুপ্রাণিত হয়। এছাড়া ‘Agrawal’s Quantitative Aptitude’ বইটা প্র্যাকটিসের জন্য সেরা।

শর্টকাট: সাইফুর’স ম্যাথ বইটা দেখতে পারো দ্রুত সমাধান শেখার জন্য।

 

৪. সাধারণ জ্ঞান ও কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স

এখানে ট্র্যাডিশনাল জিকের চেয়ে ফিন্যান্সিয়াল জিকি বা অর্থনৈতিক ঘটনাবলী বেশি আসে।

মাসিক ম্যাগাজিন:’Current Affairs’ বা ‘Current World’ নিয়মিত পড়ো। তবে শুধু সাম্প্রতিক তথ্যগুলো দেখবে।

ব্যাংকিং নলেজ: বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট নিয়মিত ভিজিট করবে। বিশেষ করে বর্তমান গভর্নর কে, মুদ্রানীতি (Monetary Policy), ফরেক্স রিজার্ভ এবং ব্যাংকিং খাতের নতুন টার্মগুলো লিখে রাখবে।

বেসিক জিকে: ‘MP3’ বা ‘Oracle’ এর যেকোনো একটা সিরিজ বাংলাদেশ বিষয়াবলীর জন্য যথেষ্ট।

 

### ৫. কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তি

এখনকার পরীক্ষায় কম্পিউটার থেকে বেশ ট্রিকি প্রশ্ন আসে।

বোর্ড বই: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর ‘মুজিবুর রহমান’ স্যারের আইসিটি বইটা বেসিকের জন্য ভালো।

প্র্যাকটিস: ‘Easy Computer’ বা যেকোনো জব গাইড থেকে বিগত বছরের প্রশ্নগুলো সলভ করলে একটা ধারণা পাবে। বিশেষ করে শর্টকাট কি (Shortcut keys) আর নেটওয়ার্কিং পার্টটা ভালো করে দেখবে।

 

কিছু কমন প্রশ্নের উত্তর (FAQs)

 

১. ভাইয়া, এত বই কি ৩ মাসে শেষ করা সম্ভব?

সব বই তো আর পৃষ্ঠা ধরে পড়তে হবে না। সিলেবাস দেখে ইম্পর্টেন্ট টপিকগুলো পড়ো। বিগত বছরের প্রশ্নের প্যাটার্ন ফলো করলে বুঝবে কোন কোন চ্যাপ্টার বাদ দেওয়া যায়।

 

২. আমি ম্যাথে একদম কাঁচা, কী করব?

প্রতিদিন অন্তত ২ ঘণ্টা ম্যাথ করো। সূত্র মুখস্থ না করে লজিক বোঝার চেষ্টা করো। ক্লাস সিক্স-সেভেনের ম্যাথ দিয়ে শুরু করো, লজ্জা পাওয়ার কিছু নেই। গোড়া মজবুত না হলে বড় দালান টিকবে না।

 

৩. ভোকাবুলারি মনে থাকে না, উপায় কী?

একদিনে ৫০টা না শিখে দিনে ৫টা শেখো, কিন্তু সেটা বাক্য দিয়ে শেখো। ফ্ল্যাশ কার্ড ব্যবহার করতে পারো। ফোনে ডিকশনারি অ্যাপ রাখো।

 

৪. বাজারে তো অনেক গাইড বই আছে, কোনটা ভালো?

যেকোনো একটা ভালো প্রকাশনীর (যেমন- প্রিসেপ্টরস বা প্রফেসরস) ব্যাংক গাইড সাথে রাখতে পারো শুধু বিগত বছরের প্রশ্নগুলো দেখার জন্য। মেইন প্রস্তুতির জন্য টেক্সট বইয়ের বিকল্প নেই।

 

বই কেনা মানেই কিন্তু প্রস্তুতি না। বইগুলো টেবিল সাজিয়ে না রেখে পাতা ওল্টানো শুরু করতে হবে। পরের পার্টে আমি বলব, এই ৩ মাস সময়কে কীভাবে ভাগ করে তুমি অন্যদের চেয়ে এগিয়ে থাকবে।

 

ফেসবুকে প্রস্তুতির জন্য  Bankers’ Selection Committee বা সিনিয়র কর্মকর্তাদের পরিচালিত গ্রুপগুলো ফলো করতে পারো যেখানে রিয়েল টাইম টিপস পাওয়া যায়। তবে সারাদিন স্ক্রলিং না করে পড়ার টেবিলে সময় বেশি দিও।

 

বই কেনা আর সার্কুলার বোঝা তো হলো, এবার আসল লড়াইয়ের পালা। হাতে সময় আছে মাত্র ৩ মাস বা ৯০ দিন। ১০ বছর এই সেক্টরে থাকার অভিজ্ঞতায় আমি দেখেছি, যারা সফল হয় তারা কেবল কঠোর পরিশ্রম করে না, বরং তারা জানে কোন সময়টায় ঠিক কী পড়তে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রিলি পাস করা মানেই কিন্তু অর্ধেকের বেশি যুদ্ধ জয় করে ফেলা।

 

এখন আমি তোমাদের জন্য একটি বাস্তবসম্মত রোডম্যাপ দিচ্ছি যেটা ফলো করলে এই ৯০ দিনে তুমি নিজেকে প্রস্তুতির এক অন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারবে।

 

৯০ দিনে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রিলি জয়ের মাস্টারপ্ল্যান

 

এই ৯০ দিনকে আমরা তিনটি ভাগে ভাগ করব। প্রথম ৪৫ দিন হবে বেসিক তৈরির সময়, পরের ৩০ দিন হবে প্রচুর প্র্যাকটিস আর শেষ ১৫ দিন হবে কেবল রিভিশন আর মক টেস্টের জন্য।

 

প্রথম ৪৫ দিন: ভিত্তি মজবুত করা

 

এই সময়ে নতুন কিছু শেখার ভয়টা কাটিয়ে উঠতে হবে।

সকাল (২ ঘণ্টা): ইংরেজি ভোকাবুলারি আর পত্রিকা পড়া। ডেইলি স্টার পত্রিকার সম্পাদকীয় অংশটি পড়ো আর অজানা শব্দগুলো ডায়েরিতে লিখে ফেলো। দিনে অন্তত ১০ থেকে ১৫টি নতুন শব্দ শিখবে এবং সেগুলো দিয়ে বাক্য তৈরি করা শিখবে।

দুপুর (৩ ঘণ্টা): গণিত বা ম্যাথ। এই সময়টা ম্যাথের জন্য সেরা কারণ দুপুরে অনেকেরই তন্দ্রাচ্ছন্ন ভাব থাকে, ম্যাথ করলে মস্তিষ্ক সচল থাকে। ক্লাস সিক্স থেকে এইটের বোর্ড বইগুলো এই ৪৫ দিনে শেষ করো। বিশেষ করে লসাগু, গসাগু, শতকরা, লাভ-ক্ষতি আর সুদকষার অংকগুলো।

বিকাল (১.৫ ঘণ্টা): কম্পিউটার আর সাধারণ জ্ঞান। ছোট ছোট টপিকগুলো প্রতিদিন শেষ করো। ব্যাংকিং জগতের নতুন শব্দ বা টার্মগুলো নোট করে রাখো।

রাত (২.৫ ঘণ্টা): বাংলা ব্যাকরণ আর সাহিত্য। বোর্ড বই থেকে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়গুলো দাগিয়ে পড়ো।

 

পরের ৩০ দিন: প্র্যাকটিস আর গতি বাড়ানো

 

এই সময়ে মূল বইয়ের চেয়ে বিগত বছরের প্রশ্নের ওপর জোর দিতে হবে সবচেয়ে বেশি।

বিগত বছরের প্রশ্ন: বাংলাদেশ ব্যাংকের গত ১০ বছরের এডি এবং ক্যাশ অফিসার পরীক্ষার সব প্রশ্ন সমাধান করো। শুধু উত্তর মুখস্থ করলে হবে না, কেন এই উত্তরটি হলো সেই যুক্তিটা বুঝে নাও।

ম্যাথের গতি: এই ৩০ দিনে আগরওয়াল বা জিম্যাটের ম্যাথগুলো টাইমার ধরে প্র্যাকটিস করো। প্রিলিতে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো খুব কম সময়ে অংক মিলিয়ে আসা।

গ্রুপ স্টাডি: অনলাইনে বা পরিচিত বন্ধুদের সাথে ছোট গ্রুপ করতে পারো। তবে খেয়াল রাখবে সেখানে যেন কেবল প্রবলেম সলভিং হয়, আড্ডা যেন না জমে।

 

শেষ ১৫ দিন: চূড়ান্ত প্রস্তুতি বা রিভিশন

 

এই সময় নতুন কোনো টপিক ধরার একদমই দরকার নেই।

রিভিশন: গত ৭৫ দিনে তুমি যে নোটগুলো করেছ, সেগুলো বারবার ওল্টাও। বিশেষ করে ইংরেজি ভোকাবুলারি আর ম্যাথের শর্টকাট সূত্রগুলো।

মক টেস্ট: প্রতিদিন অন্তত একটি করে পূর্ণাঙ্গ মক টেস্ট দাও। একদম ঘড়ি ধরে পরীক্ষা দাও যাতে বুঝতে পারো কোন সেকশনে তোমার সময় বেশি নষ্ট হচ্ছে।

দুর্বলতা চিহ্নিত করা: মক টেস্ট দেওয়ার পর যেখানে ভুল হচ্ছে, কেবল সেই নির্দিষ্ট টপিকটি একবার ঝালিয়ে নাও।

 

এই ৩ মাসের জন্য আমার পক্ষ থেকে কিছু বিশেষ টিপস

 

১. সোশ্যাল মিডিয়া থেকে দূরে থাকো: আমি জানি ফেসবুক ছাড়া এখন চলা কঠিন, কিন্তু এই ৯০ দিন নিজেকে একটু আড়াল করো। সারাদিন মোটিভেশনাল ভিডিও না দেখে পড়ার টেবিলে সময় দাও।

২. ইংরেজি আর ম্যাথে বিশেষ নজর: ব্যাংকের প্রিলিতে এই দুই বিষয়েই সবচেয়ে বেশি মানুষ বাদ পড়ে। এই দুইটিতে যদি তুমি ভালো নম্বর তুলতে পারো, তবে তোমার সফল হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যাবে।

৩. নেগেটিভ মার্কিং এড়িয়ে চলা: বাংলাদেশ ব্যাংকের পরীক্ষায় ভুল উত্তরের জন্য নম্বর কাটা যায়। তাই আন্দাজে উত্তর দাগানো একদম বন্ধ করতে হবে। যা নিশ্চিত জানো কেবল সেটুকুই উত্তর দাও।

৪. স্বাস্থ্য ও ঘুম: শরীর ঠিক না থাকলে ৩ মাস এই ধকল সইতে পারবে না। দিনে অন্তত ৬ ঘণ্টা ঘুমানোর চেষ্টা করো আর প্রচুর পানি পান করো। জিম বা ভারি ব্যায়াম এই কয়দিন একটু কমিয়ে দিলেও চলে, রিফ্রেশমেন্টের জন্য সামান্য হাঁটাচলাই যথেষ্ট।

 

তোমাদের মনে আসা কিছু সাধারণ প্রশ্ন

 

১. ভাইয়া, সাধারণ জ্ঞান কত মাসের পড়ব?

পরীক্ষার আগের অন্তত ৬ মাসের কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স খুব ভালো করে পড়বে। বিশেষ করে নতুন বাজেট, অর্থনৈতিক সমীক্ষা আর বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন কোনো নীতিমালা থাকলে সেগুলো।

 

২. আমি কি প্রিলির সাথে রিটেনের প্রস্তুতিও নেব?

অবশ্যই। প্রতিদিন ইংরেজি পত্রিকা পড়া আর নিয়মিত ম্যাথ প্র্যাকটিস করা মানেই কিন্তু তোমার লিখিত পরীক্ষার অর্ধেক কাজ হয়ে যাওয়া। রিটেনের বড় লেখাগুলো সপ্তাহে একদিন অন্তত প্র্যাকটিস করতে পারো।

 

৩. মাঝেমধ্যে মনে হয় আমাকে দিয়ে হবে না, কী করব?

মনে রাখবে, এখন যারা বাংলাদেশ ব্যাংকে বড় বড় পদে আছেন, তারা সবাই তোমার মতোই সাধারণ শিক্ষার্থী ছিলেন। তাদের সফলতার মূল চাবিকাঠি ছিল ধৈর্য। তুমিও পারবে যদি হাল না ছাড়ো।

 

এই ৩ মাস যদি তুমি নিজেকে পুরোপুরি পড়াশোনায় ডুবিয়ে দিতে পারো, তবে ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশ ব্যাংকের সেই কাঙ্ক্ষিত চেয়ারটি তোমারই হবে। আমি সবসময় তোমাদের পাশেই আছি। কোনো সমস্যা হলে নির্দ্বিধায় জানিও।

 

ফেসবুকে প্রস্তুতির জন্য প্রিসেপ্টরস বা প্রফেসরস এর মতো পেজগুলো নিয়মিত ফলো করতে পারো তথ্যের জন্য। তবে মনে রাখবে, স্ক্রলিং করার চেয়ে বই পড়া অনেক বেশি জরুরি।

 

সবার জন্য অনেক অনেক শুভকামনা। দেখা হবে বাংলাদেশ ব্যাংকের করিডোরে।

Leave a Comment

Telegram
WhatsApp
FbMessenger