ইন্টারন্যাশনাল ড্রাইভিং পারমিট (IDP)
বাংলাদেশে ইন্টারন্যাশনাল ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে কত টাকা লাগে?
ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে কত দিন লাগে ২০২৪?
আন্তর্জাতিক ড্রাইভিং পারমিট লাইসেন্স কী?
বাংলাদেশে ইন্টারন্যাশনাল ড্রাইভিং লাইসেন্স করার নিয়ম কী?
ড্রাইভিং লাইসেন্স আবেদন
লার্নার ড্রাইভিং লাইসেন্স ফরম পূরণ অনলাইন
অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স অনলাইন আবেদন ফরম
ড্রাইভিং লাইসেন্স আবেদন ফরম
মোটরসাইকেল ড্রাইভিং লাইসেন্স আবেদন ফরম
লার্নার ড্রাইভিং লাইসেন্স আবেদন
BRTA gov bd ড্রাইভিং লাইসেন্স online
চলুন জেনে নিই বিস্তারিত, আমি ১০ বছর ধরে বাংলাদেশের জব মার্কেট, ক্যারিয়ার কাউন্সেলিং এবং আন্তর্জাতিক মাইগ্রেশন সেক্টরে কাজ করছি। এই দীর্ঘ সময়ে আমি হাজার হাজার শিক্ষার্থীকে দেখেছি যারা উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে পাড়ি জমানোর আগে ড্রাইভিং লাইসেন্স বা ইন্টারন্যাশনাল ড্রাইভিং পারমিট (IDP) নিয়ে সঠিক তথ্যের অভাবে শেষ মুহূর্তে সমস্যায় পড়েন। বিদেশের মাটিতে বিশেষ করে ইউএসএ বা ইউরোপে নিজের একটি গাড়ি থাকা বা অন্তত ড্রাইভ করতে পারা আপনার জীবনযাত্রাকে অনেক সহজ করে দেবে এবং অনেক ক্ষেত্রে পার্ট টাইম জবের সুযোগও তৈরি করে দেবে। আপনার এই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলোর উত্তর নিয়ে আজকের এই মাস্টার গাইডটি সাজিয়েছি যা ইন্টারন্যাশনাল ড্রাইভিং পারমিট বাংলাদেশ সংক্রান্ত সকল কনফিউশন দূর করবে।
ইন্টারন্যাশনাল ড্রাইভিং পারমিট (IDP) করার পূর্ণাঙ্গ গাইডলাইন
বাংলাদেশে ইন্টারন্যাশনাল ড্রাইভিং পারমিট ইস্যু করার একমাত্র অনুমোদিত সংস্থা হলো অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ (AAB)। বিআরটিএ সরাসরি এটি দেয় না, তারা শুধু আপনার মূল লাইসেন্সটি ভেরিফাই করে। আইডিপি মূলত একটি আন্তর্জাতিক দলিল যা প্রমাণ করে যে আপনি আপনার নিজ দেশে গাড়ি চালানোর অনুমতিপ্রাপ্ত।
ইন্টারন্যাশনাল ড্রাইভিং পারমিট করার ধাপসমূহ
১. মূল লাইসেন্স নিশ্চিত করা: আইডিপির জন্য আবেদন করার প্রথম শর্ত হলো আপনার কাছে একটি বৈধ স্মার্ট কার্ড ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকতে হবে। লার্নার বা অন্তর্বর্তীকালীন স্লিপ দিয়ে আইডিপি করা সম্ভব নয়। আপনার লাইসেন্সটি যদি হাই সিকিউরিটি স্মার্ট কার্ড হয় তবে প্রসেস অনেক দ্রুত হয়।
প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহ: আবেদনের জন্য নিচের ডকুমেন্টসগুলো প্রস্তুত রাখুন:
মূল ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং এর দুই সেট ফটোকপি।
পাসপোর্ট সাইজের ৫ কপি ছবি এবং ১ কপি স্ট্যাম্প সাইজ ছবি।
বর্তমান পাসপোর্টের ফটোকপি এবং মূল পাসপোর্ট সাথে রাখা ভালো।
জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডির ফটোকপি।
৩. ফরম পূরণ ও জমা: অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ (AAB) এর অফিস থেকে ফরম সংগ্রহ করে সেটি পূরণ করতে হবে। বর্তমানে তাদের অফিস রাজধানীর শান্তিনগর এলাকায় কনকর্ড গ্র্যান্ড বিল্ডিংয়ে অবস্থিত। ফরমটি পূরণ করার সময় আপনার নাম এবং তথ্য যেন পাসপোর্টের সাথে হুবহু মিল থাকে সেদিকে খেয়াল রাখবেন।
৪. ফি প্রদান ও সময়সীমা: আইডিপি করার সরকারি ফি সাধারণত ২৫০০ থেকে ৩০০০ টাকার আশেপাশে হয়ে থাকে। তবে জরুরি বা আর্জেন্ট বেসিসে করলে ফি কিছুটা বাড়তে পারে। আবেদন জমা দেওয়ার পর সাধারণত ৫ থেকে ৭ কর্মদিবসের মধ্যে আপনি আপনার পারমিট হাতে পাবেন।
বিদেশে আইডিপির ব্যবহার ও মেয়াদ
বিদেশে ড্রাইভ করার ক্ষেত্রে আইডিপি একটি সহায়ক ডকুমেন্ট হিসেবে কাজ করে তবে এটি আপনার মূল লাইসেন্সের বিকল্প নয়।
১. ব্যবহারের মেয়াদ: ইন্টারন্যাশনাল ড্রাইভিং পারমিট ইস্যুর তারিখ থেকে সাধারণত ১ বছর পর্যন্ত মেয়াদী হয়। ইউরোপ বা আমেরিকার বেশিরভাগ স্টেটে আপনি পৌঁছানোর পর প্রথম ৩ থেকে ৬ মাস এই পারমিট দিয়ে ড্রাইভ করতে পারবেন। কিছু কিছু দেশে এটি ১ বছর পর্যন্ত গ্রহণ করা হয়।
২. স্থানীয় লাইসেন্সে রূপান্তর: আপনি যদি সেখানে দীর্ঘমেয়াদে থাকতে চান তবে আইডিপি থাকা অবস্থায় আপনাকে স্থানীয় ড্রাইভিং টেস্ট দিয়ে সেখানকার মূল লাইসেন্স সংগ্রহ করতে হবে। তবে আইডিপি থাকলে আপনার বড় সুবিধা হলো আপনাকে নতুন করে লার্নার পিরিয়ড পার করতে হবে না। আইডিপি থাকলে অনেক ক্ষেত্রে ইনস্যুরেন্স খরচ অনেক কমে যায় এবং রেন্ট এ কার সার্ভিস থেকে গাড়ি ভাড়া পাওয়া সহজ হয়।
বাংলাদেশে ড্রাইভিং শেখার সেরা ও সাশ্রয়ী মাধ্যম
বিদেশে যাওয়ার আগে ড্রাইভিং শেখার জন্য কেবল স্টিয়ারিং ধরা শিখলেই হবে না বরং ট্রাফিক সাইন এবং ইন্টারন্যাশনাল ড্রাইভিং রুলস সম্পর্কেও স্পষ্ট ধারণা থাকতে হবে।
১. বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (BRTA) ট্রেনিং: সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য এবং সাশ্রয়ী হলো বিআরটিএ-র নিজস্ব ড্রাইভিং ট্রেনিং কোর্স। এটি সরকারিভাবে পরিচালিত হয় এবং খরচ অনেক কম। এখানে প্রফেশনাল ট্রেইনাররা হাতে কলমে কাজ শেখান।
২. ব্র্যাক ড্রাইভিং স্কুল (BRAC Driving School): বেসরকারি খাতের মধ্যে ব্র্যাকের ট্রেনিং সব চেয়ে মানসম্মত। উত্তরা এবং আশকোনায় তাদের বিশাল ড্রাইভিং ট্র্যাক আছে। তারা কেবল ড্রাইভিং শেখায় না বরং রোড সেফটি এবং ইঞ্জিনের মেকানিজম নিয়ে বিস্তারিত ধারণা দেয়। বিদেশের রাস্তার জন্য এটি সব চেয়ে ভালো প্রস্তুতি। এদের ফি কিছুটা বেশি হলেও শিক্ষার মান অত্যন্ত উন্নত।
৩. লোকাল ড্রাইভিং স্কুল: ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকায় অনেক ছোট ছোট ড্রাইভিং স্কুল আছে। এগুলোতে সাধারণত ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকার মধ্যে কোর্স করা যায়। তবে বেছে নেওয়ার আগে অবশ্যই নিশ্চিত হয়ে নিন তাদের ইন্সট্রাক্টরের বিআরটিএ লাইসেন্স আছে কি না।
টিপস এবং বাস্তব অভিজ্ঞতা
আমার দীর্ঘ ১০ বছরের অভিজ্ঞতায় আমি দেখেছি অনেক স্টুডেন্ট বিদেশে গিয়ে ড্রাইভিং না জানার কারণে ভালো বেতনের ডেলিভারি জব বা উবার চালানোর সুযোগ হারায়। আমেরিকায় পাবলিক ট্রান্সপোর্ট সব জায়গায় ভালো নয় তাই সেখানে বেঁচে থাকার জন্য ড্রাইভিং জানা অনেকটা অপরিহার্য।
পরামর্শ ১: বাংলাদেশে থাকতেই অন্তত ৩ থেকে ৪ মাস নিয়মিত ড্রাইভ করে হাত পাকিয়ে নিন। বিদেশের রাস্তায় ট্রাফিক জ্যাম কম থাকলেও গাড়ির গতি অনেক বেশি থাকে তাই আপনার রিফ্লেক্স ভালো হওয়া জরুরি।
পরামর্শ ২: ট্রাফিক সাইনগুলো মুখস্থ করে ফেলুন। বিশেষ করে স্টপ সাইন, ইয়েল্ড সাইন এবং লেন পরিবর্তনের নিয়মগুলো। ইউটিউবে ইউএসএ বা ইউকে ড্রাইভিং রুলস লিখে সার্চ করে ভিডিওগুলো দেখুন।
পরামর্শ ৩: আইডিপি করার পর সেটির একটি স্ক্যান কপি নিজের গুগল ড্রাইভে রেখে দিন যেন হারানো গেলেও আপনার কাছে তথ্য থাকে।
আপনারা যারা ইন্টারনেটে আরও বিস্তারিত জানতে চান তারা নিচের শব্দগুলো লিখে সার্চ করতে পারেন:
International Driving Permit Bangladesh application process.
How to get IDP from Automobile Association of Bangladesh.
BRTA driving license verification for international students.
Cost of IDP in Bangladesh 2026.
Best driving training center in Dhaka for abroad going students.
Driving rules for international students in USA and UK.
১. লার্নার কার্ড দিয়ে কি আইডিপি করা যায়?
না। আইডিপি পাওয়ার জন্য আপনার অবশ্যই মূল স্মার্ট কার্ড ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকতে হবে। লার্নার কার্ড কেবল বাংলাদেশে শেখার জন্য বৈধ।
২. আইডিপি কি অনলাইনে আবেদন করা যায়?
বর্তমানে বেশিরভাগ কাজ সশরীরে এএবি অফিসে গিয়ে করতে হয় তবে ফরম অনলাইনে অনেক সময় পাওয়া যেতে পারে। তাদের অফিসে গিয়ে আবেদন করা সব চেয়ে নিরাপদ।
৩. আমার লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হতে ২ মাস বাকি আমি কি আইডিপি পাব?
না। আপনার মূল লাইসেন্সের মেয়াদ অন্তত ১ বছর থাকা বাঞ্ছনীয়। লাইসেন্স রিনিউ করে তারপর আইডিপির জন্য আবেদন করা নিরাপদ কারণ আইডিপির মেয়াদ আপনার মূল লাইসেন্সের মেয়াদের ওপর নির্ভর করে।
৪. বিদেশে গাড়ি চালানোর সময় কি শুধু আইডিপি থাকলেই হবে?
না। বিদেশে ড্রাইভ করার সময় আপনাকে আইডিপির সাথে আপনার বাংলাদেশের মূল ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং পাসপোর্ট সব সময় সাথে রাখতে হবে। পুলিশের চেকিংয়ের সময় এই তিনটি ডকুমেন্টই দেখাতে হয়।
৫. অটোমেটিক নাকি ম্যানুয়াল কোনটি শিখব?
বিদেশে বিশেষ করে আমেরিকায় প্রায় সব গাড়িই অটোমেটিক। তবে ইউরোপে অনেক জায়গায় ম্যানুয়াল গাড়ি এখনো জনপ্রিয়। আমি পরামর্শ দেব অটোমেটিক ড্রাইভিং ভালোভাবে শেখার জন্য কারণ এটি সহজ এবং বিদেশের যাতায়াতের জন্য বেশি উপযোগী। তবে সময় থাকলে ম্যানুয়াল শিখে রাখা বাড়তি সুবিধা।
বিদেশে পড়তে যাওয়া আপনার জীবনের একটি বড় টার্নিং পয়েন্ট। উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি ড্রাইভিং দক্ষতা আপনাকে সেখানে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে এবং আপনার জীবনকে স্বাধীন করে তুলবে। সময় নষ্ট না করে আজই আপনার লাইসেন্স ভেরিফাই করে আইডিপির জন্য আবেদন করে ফেলুন। এই ছোট একটি প্রস্তুতি আপনার বিদেশের জীবনকে অনেক বেশি মসৃণ করে দেবে।
দেখা হবে বিজয়ে।
শুভকামনা রইল।