জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৩ বছরের দীর্ঘ পথচলায় ২য় সমাবর্তন হতে যাচ্ছে একটি ঐতিহাসিক ঘটনা। ১০ বছর ধরে এই শিক্ষা ব্যবস্থার সাথে যুক্ত থাকার সুবাদে আমি জানি, হাজার হাজার গ্র্যাজুয়েট কত দীর্ঘ সময় ধরে এই দিনটির অপেক্ষায় ছিলে। তোমাদের সেই অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ২০২৬ সালের ডিসেম্বর মাসকে সামনে রেখে এক বিশাল আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। আজকের এই পোস্টে আমি ২য় সমাবর্তন ২০২৬-এর একদম খুঁটিনাটি এবং সম্ভাব্য সব তথ্য তোমাদের জন্য সহজভাবে তুলে ধরছি।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২য় সমাবর্তন ২০২৬: বিস্তারিত গাইডলাইন
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন মানেই লাখ লাখ শিক্ষার্থীর মিলনমেলা। ৩৩ বছরের ইতিহাসে এটি মাত্র দ্বিতীয় আয়োজন হতে যাচ্ছে, তাই এর গুরুত্ব এবং আবেগ দুই-ই অনেক বেশি। তোমাদের মনে অনেক প্রশ্ন আছে যে কারা অংশ নিতে পারবে বা কবে থেকে শুরু হবে। চলো সব প্রশ্নের উত্তর জেনে নেই।
সমাবর্তনের সম্ভাব্য সময় এবং পরিকল্পনা
বর্তমানে ২০২৬ সালের ডিসেম্বর মাসকে কেন্দ্র করে সমাবর্তনের প্রাথমিক পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। সমাবর্তন আয়োজন করার জন্য চ্যান্সেলর বা মহামান্য রাষ্ট্রপতির অনুমতির প্রয়োজন হয়। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে সার্বিক প্রস্তুতি গুছিয়ে এনেছে এবং সময়সূচী অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি বছরের শেষ দিকে তোমরা এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হতে যাচ্ছ।
কারা অংশগ্রহণ করতে পারবে (এলিজিবিলিটি)
সমাবর্তনে অংশগ্রহণের যোগ্যতা নিয়ে তোমাদের মনে সবচেয়ে বেশি সংশয় থাকে। সহজভাবে বুঝে নাও:
প্রথম সমাবর্তন: ২০১৭ সালে অনুষ্ঠিত প্রথম সমাবর্তনে ২০১২ সাল পর্যন্ত যারা ডিগ্রি, অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেছিল তারা সুযোগ পেয়েছিল।
২য় সমাবর্তন: এবারের সমাবর্তনে মূলত ২০১৩ সাল থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত যারা স্নাতক (ডিগ্রি ও অনার্স) এবং স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) সম্পন্ন করেছ, তারা সবাই অংশগ্রহণ করার সুযোগ পাবে। অর্থাৎ এই ১০ বছরের মধ্যে পাস করা গ্র্যাজুয়েটদের বিশাল একটি অংশ এবার একসাথে মূল সনদ ও মেডেল গ্রহণের সুযোগ পাবে।
আবেদন ও রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া
এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে রেজিস্ট্রেশন শুরু হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর এবং রাষ্ট্রপতির কার্যালয় থেকে চূড়ান্ত সবুজ সংকেত পাওয়ার সাথে সাথেই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে (nu.ac.bd) রেজিস্ট্রেশন লিংক প্রকাশ করা হবে।
রেজিস্ট্রেশনের জন্য সাধারণত যা যা প্রয়োজন হতে পারে:
১. তোমার মূল সার্টিফিকেটের প্রোভিশনাল কপি বা মার্কশিট।
২. রেজিস্ট্রেশন নম্বর ও রোল নম্বর।
৩. পাসপোর্ট সাইজের ফর্মাল ছবি (সমাবর্তন গাউন পরা ছবি নয়, সাধারণ ফর্মাল ছবি)।
৪. নির্ধারিত রেজিস্ট্রেশন ফি (যা মোবাইল ব্যাংকিং বা ব্যাংকের মাধ্যমে জমা দিতে হবে)।
রেজিস্ট্রেশন ফি এবং কস্টিউম
সমাবর্তনের জন্য একটি নির্দিষ্ট ফি নির্ধারণ করা হবে। এই ফির বিনিময়ে তুমি সমাবর্তনের গাউন, ক্যাপ, ব্যাগ এবং অন্যান্য উপহার সামগ্রী পাবে। অনুষ্ঠান শেষে গাউনটি সাধারণত ফেরত দিতে হয়, তবে মেডেল এবং সার্টিফিকেট তোমার স্থায়ী অর্জন হিসেবে থাকবে। ফি কত হতে পারে তা অফিসিয়াল নোটিশ আসার আগে নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না, তবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সবসময় শিক্ষার্থীদের সামর্থ্যের কথা বিবেচনা করেই ফি নির্ধারণ করে।
কিছু কমন প্রশ্ন ও উত্তর
১. ভাইয়া, আমার রেজাল্ট ২০২৩ সালে এসেছে, আমি কি পারব?
বর্তমানে যে পরিকল্পনা, তাতে ২০২২ সাল পর্যন্ত গ্র্যাজুয়েটদের কথা বলা হচ্ছে। তবে অফিসিয়াল সার্কুলার আসার পর যদি সময়সীমা বাড়ানো হয়, তবে তোমরাও সুযোগ পেতে পারো। আপাতত ২০২২ পর্যন্ত যারা পাস করেছ তারা মানসিকভাবে প্রস্তুতি নাও।
২. রেজিস্ট্রেশন কি কলেজে হবে নাকি অনলাইনে?
রেজিস্ট্রেশন পুরোপুরি অনলাইন ভিত্তিক হবে। কলেজ থেকে আলাদাভাবে কিছু করার দরকার নেই, তবে কলেজের বিভাগীয় প্রধানের কাছ থেকে তথ্য যাচাই করার প্রয়োজন হতে পারে।
৩. প্রোভিশনাল সার্টিফিকেট কি জমা দিতে হবে?
হ্যাঁ, অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রোভিশনাল সার্টিফিকেট জমা দিয়ে মূল সার্টিফিকেট গ্রহণের জন্য সমাবর্তনে অংশ নিতে হয়। যারা ইতিমধ্যে মূল সনদ তুলে ফেলেছ, তাদের ক্ষেত্রেও রেজিস্ট্রেশনের আলাদা নিয়ম থাকতে পারে।
৪. প্রথম সমাবর্তন মিস করেছি, এখন কি সুযোগ পাব?
সাধারণত সমাবর্তনের সার্কুলারে নির্দিষ্ট সেশন উল্লেখ থাকে। যদি ২০১৩-২০২২ সেশন নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়, তবে আগের সেশনের শিক্ষার্থীরা সুযোগ না পাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। তবে বিশেষ কোনো সুযোগ দেওয়া হবে কি না তা নোটিশ আসার পরেই জানা যাবে।
প্রস্তুতি ও করণীয়
সমাবর্তনের অফিশিয়াল নোটিশ আসার সাথে সাথে দ্রুত রেজিস্ট্রেশন সেরে ফেলতে হবে কারণ এখানে অংশগ্রহণের একটি নির্দিষ্ট কোটা বা সীমা থাকতে পারে। তোমার সব ডকুমেন্টস যেমন মার্কশিট, রেজিস্ট্রেশন কার্ড এবং সার্টিফিকেটের সফট কপি স্ক্যান করে গুছিয়ে রাখো যাতে নোটিশ আসার সাথে সাথে আবেদন করতে পারো।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের এই বিশাল আয়োজন সফল করতে তোমাদের সহযোগিতা এবং ধৈর্য প্রয়োজন। এই সমাবর্তন কেবল একটি অনুষ্ঠান নয়, এটি তোমাদের দীর্ঘ চার বা পাঁচ বছরের কঠোর পরিশ্রমের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি। তোমাদের অনেক দিনের স্বপ্ন সত্যি হতে যাচ্ছে।
নতুন নতুন আপডেট এবং অফিসিয়াল নোটিশের বিস্তারিত ব্যাখ্যা পেতে আমার এই পেজের সাথেই থাকো। নোটিশ প্রকাশ হওয়া মাত্রই আমি তোমাদের স্টেপ-বাই-স্টেপ আবেদন পদ্ধতি বুঝিয়ে দেব। ধন্যবাদ।
হ্যাশট্যাগসমূহ:
#nationaluniversities #nuconvocation2026 #nuupdates #convocationnews #viralpost #graduate2026 #educationbangladesh



