Best culinary school Dhaka কালিনারি কম খরচে বেশি বতনে

Best culinary school Dhaka, আমি ১০ বছর ধরে বাংলাদেশের জব মার্কেট এবং আন্তর্জাতিক মাইগ্রেশন সেক্টরে ক্যারিয়ার কাউন্সিলর হিসেবে কাজ করছি। এই দীর্ঘ সময়ে আমি দেখেছি হাজার হাজার তরুণ-তরুণী শুধু সঠিক গাইডলাইনের অভাবে বিসিএস বা সরকারি চাকরির পেছনে বছরের পর বছর সময় নষ্ট করে ফেলে। অথচ বর্তমান যুগে কারিগরি দক্ষতা বা স্কিল বেসড ক্যারিয়ারই হচ্ছে সফলতার আসল চাবিকাঠি। বিশেষ করে বর্তমানে দেশি-বিদেশি ফাইভ স্টার হোটেল এবং টুরিজম সেক্টরে দক্ষ লোকবলের যে হাহাকার, তাতে এই ফিল্ডে ক্যারিয়ার গড়া মানেই নিশ্চিত ভবিষ্যৎ।

 

আজ আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করব বাংলাদেশের কালিনারি এবং হোটেল ম্যানেজমেন্ট সেক্টরে ক্যারিয়ার গড়ার একটি পূর্ণাঙ্গ গাইড। যারা বিদেশে মোটা বেতনের চাকরি বা দেশে নিজের ব্যবসা করতে চান, তাদের জন্য এই সেক্টরটি হতে পারে লাইফ চেঞ্জিং একটি সিদ্ধান্ত।

 

কালিনারি এবং হোটেল ম্যানেজমেন্টের গুরুত্ব

 

বর্তমানে গ্লোবাল মার্কেটে আতিথেয়তা বা হসপিটালিটি সেক্টর হচ্ছে অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল খাত। বাংলাদেশেও পর্যটন শিল্পের বিকাশের সাথে সাথে অসংখ্য আন্তর্জাতিক মানের ফাইভ স্টার হোটেল গড়ে উঠছে। এই হোটেলগুলোতে কাজ করার জন্য যেমন প্রয়োজন তাত্ত্বিক জ্ঞান, তেমনি দরকার হাতে-কলমে দক্ষতা। কালিনারি আর্টস বা কুকিং কোর্স কেবল রান্নাবান্না শেখা নয়, এটি একটি শিল্প যেখানে পুষ্টিবিজ্ঞান, হাইজিন, কস্ট ম্যানেজমেন্ট এবং প্রেজেন্টেশন ওতপ্রোতভাবে জড়িত। “

 

বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে এই সেক্টরে ক্যারিয়ার গড়ার সুবিধাগুলো হলো:

* দ্রুত চাকরি প্রাপ্তি: অন্যান্য সাধারণ ডিগ্রির তুলনায় এখানে ইন্টার্নশিপের সময়ই চাকরির অফার পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

* বিদেশে উচ্চ বেতনে কাজের সুযোগ: ইউরোপ, আমেরিকা বা মধ্যপ্রাচ্যে দক্ষ শেফ বা সার্ভিস স্টাফদের চাহিদা আকাশচুম্বী।

* উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ: কোর্স শেষে নিজের রেস্টুরেন্ট বা ক্যাফে ব্যবসা শুরু করার পূর্ণ দক্ষতা অর্জন করা সম্ভব।

 

 

শীর্ষস্থানীয় কালিনারি ইনস্টিটিউটসমূহ

 

বাংলাদেশে এখন বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ প্রদান করছে। আপনি যখন একটি প্রতিষ্ঠান বাছাই করবেন, তখন তাদের ল্যাব ফ্যাসিলিটি এবং সার্টিফিকেশন সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে নেবেন। নিচে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের নাম ও তাদের বৈশিষ্ট্য আলোচনা করা হলো:

১. ন্যাশনাল হোটেল এন্ড টুরিজম ট্রেনিং ইনস্টিটিউট (NHTTI)

এটি বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের অধীনে পরিচালিত সরকারি প্রতিষ্ঠান। ১৯৭৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশের হসপিটালিটি সেক্টরে পথিকৃৎ হিসেবে কাজ করছে। “

* প্রধান কোর্সসমূহ: ডিপ্লোমা ইন হোটেল ম্যানেজমেন্ট, প্রফেশনাল শেফ কোর্স, ফুড এন্ড বেভারেজ প্রোডাকশন, এবং ট্রাভেল এজেন্সি অপারেশন।

* বৈশিষ্ট্য: সরকারি প্রতিষ্ঠান হওয়ায় এর সার্টিফিকেটের বিশ্বজুড়ে গ্রহণযোগ্যতা অনেক বেশি। বিশেষ করে সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে বা বিদেশে মাইগ্রেশনে এটি দারুণ কাজে দেয়। “

 

২. ইনস্টিটিউট অফ হোটেল ম্যানেজমেন্ট এন্ড হসপিটালিটি (IHMH)

বেসরকারি খাতে এটি অন্যতম বিশ্বস্ত নাম। ২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড (BTEB) এবং এনএসডিএ (NSDA) অনুমোদিত। “

* প্রধান কোর্সসমূহ: লেভেল ২ এবং লেভেল ৩ ফুড এন্ড বেভারেজ প্রোডাকশন ও সার্ভিস।

* বৈশিষ্ট্য: তাদের ট্রেনিং কারিকুলাম আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে সাজানো এবং শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে শেখানোর জন্য উন্নত ল্যাব রয়েছে। “

 ৩. ইন্টারন্যাশনাল কালিনারি ইনস্টিটিউট (ICI)

আধুনিক রান্নার কলাকৌশল এবং গ্লোবাল স্ট্যান্ডার্ড শেখার জন্য এটি একটি জনপ্রিয় প্রতিষ্ঠান। এদের ঢাকা, চট্টগ্রাম এবং সিলেটে ক্যাম্পাস রয়েছে। “

* প্রধান কোর্সসমূহ: ডিপ্লোমা ইন গ্লোবাল কালিনারি আর্টস, বেকারি এন্ড প্যাস্ট্রিতে অ্যাডভান্সড কোর্স এবং বারিস্তা কোর্স।

* বৈশিষ্ট্য: এখান থেকে অর্জিত সার্টিফিকেট অনেক ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সংস্থা দ্বারা স্বীকৃত হয়, যা স্কিল মাইগ্রেশনের জন্য সহায়ক। “

 

৪. টনি খান হোটেল ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউট (TKHMI)

বিশ্বখ্যাত শেফ টনি খানের নাম অনুসারে এই প্রতিষ্ঠানটি পরিচালিত হয়। এটি বিশেষ করে সিলেট এবং ঢাকার শিক্ষার্থীদের মাঝে জনপ্রিয়। “

* প্রধান কোর্সসমূহ: ডিপ্লোমা ইন ফুড এন্ড বেভারেজ প্রোডাকশন (লেভেল ৩ থেকে ৭)।

* বৈশিষ্ট্য: সেলিব্রিটি শেফদের সরাসরি তত্ত্বাবধান এবং ইন্ডাস্ট্রি কানেকশনের কারণে এখান থেকে কোর্স করে ভালো মানের হোটেলে চাকরির সুযোগ পাওয়া যায়।

 

সফল ক্যারিয়ারের রোডম্যাপ

 

আপনি যদি একজন সফল শেফ বা হোটেল ম্যানেজমেন্ট প্রফেশনাল হতে চান, তবে নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করুন:

 

**ধাপ ১: নিজের আগ্রহ খুঁজে বের করা**

হসপিটালিটি সেক্টরে অনেকগুলো ভাগ আছে। আপনার কি রান্না করতে ভালো লাগে? নাকি মানুষের সাথে কথা বলতে বা ম্যানেজমেন্ট সামলাতে? রান্না ভালো লাগলে **ফুড প্রোডাকশন**, আর মানুষের সেবা করা ভালো লাগলে **ফুড এন্ড বেভারেজ সার্ভিস** বা **ফ্রন্ট অফিস** বেছে নিন।

 

**ধাপ ২: সঠিক প্রতিষ্ঠান ও কোর্স নির্বাচন**

উপরে উল্লেখিত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে আপনার অবস্থান এবং বাজেট অনুযায়ী একটি বেছে নিন। ভর্তির আগে অবশ্যই ল্যাব এবং আগের শিক্ষার্থীদের ফিডব্যাক যাচাই করুন। কারিগরি শিক্ষার ক্ষেত্রে থিওরির চেয়ে প্র্যাকটিক্যাল ক্লাসের গুরুত্ব অনেক বেশি। “

 

**ধাপ ৩: এনএসডিএ (NSDA) সার্টিফিকেশন নিশ্চিত করা**

বর্তমানে বাংলাদেশে এনএসডিএ (National Skills Development Authority) এর সার্টিফিকেশন সব চেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। আপনি যে লেভেলের কোর্সই করেন না কেন, জাতীয় দক্ষতা সনদ নিশ্চিত করুন। এটি আপনার স্কিলকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়।

 

**ধাপ ৪: ইন্টার্নশিপ ও নেটওয়ার্কিং**

কোর্স শেষে ভালো কোনো হোটেলে ইন্টার্নশিপ করার সুযোগ হাতছাড়া করবেন না। ইন্টার্নশিপের সময় সিনিয়র শেফ বা ম্যানেজারদের সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তুলুন। আপনার কাজের দক্ষতা এবং ব্যবহারই আপনাকে স্থায়ী চাকরির সুযোগ করে দেবে।

 

 প্রো টিপস এবং গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা

 

১. ভাষা দক্ষতা: বিদেশে যাওয়ার ইচ্ছা থাকলে ইংরেজি বা ফরাসি ভাষার ওপর গুরুত্ব দিন। বিশেষ করে যারা ইউরোপে যেতে চান, তাদের জন্য ভাষা শেখা অপরিহার্য। “

 

২. স্বাস্থ্যগত সচেতনতা: হসপিটালিটি সেক্টরে স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতা (Hygiene) সব চেয়ে বড় বিষয়। যারা বিদেশে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন, তারা মনে রাখবেন কালিনারি সেক্টরে হেপাটাইটিস বি বা অন্যান্য ছোঁয়াচে রোগ থাকলে ভিসা পাওয়া কঠিন হতে পারে। তাই কোর্স শুরু করার আগেই একবার হেলথ চেকআপ করিয়ে নেওয়া ভালো।

 

৩. ট্র্যাকিং পেজ ও পোর্টফোলিও: বর্তমান যুগ সোশ্যাল মিডিয়ার। আপনার রান্নার বা কাজের ছবি এবং ভিডিও দিয়ে একটি প্রফেশনাল পেজ বা পোর্টফোলিও তৈরি করুন। এটি জব ইন্টারভিউতে অন্যদের চেয়ে আপনাকে অনেক এগিয়ে রাখবে।

 

৪. প্রযুক্তির ব্যবহার: আধুনিক কিচেন ইকুইপমেন্ট এবং নতুন নতুন টেকনিক সম্পর্কে সবসময় আপডেট থাকুন। ইউটিউব বা অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে গ্লোবাল ট্রেন্ডগুলো ফলো করুন।

 

 

FAQ

 

১. এই কোর্সগুলো শেষ করে কি সরাসরি বিদেশে যাওয়া সম্ভব?

সরাসরি যাওয়া কঠিন হতে পারে, তবে অসম্ভব নয়। সাধারণত কোর্স শেষে দেশে ১-২ বছর ভালো কোনো হোটেলে কাজের অভিজ্ঞতা থাকলে ইউরোপ বা মধ্যপ্রাচ্যের জব মার্কেটে এন্ট্রি নেওয়া অনেক সহজ হয়ে যায়।

 

২. পড়াশোনার পাশাপাশি কি এই কোর্স করা যায়?

হ্যাঁ সম্ভব। বেশিরভাগ কারিগরি প্রতিষ্ঠানে উইকেন্ড বা ইভিনিং ব্যাচ থাকে। ফলে আপনি আপনার নিয়মিত পড়াশোনার ক্ষতি না করেই স্কিল অর্জন করতে পারবেন।

 

৩. লেভেল ২ এবং লেভেল ৩ এর মধ্যে পার্থক্য কী?

লেভেল ২ হলো বেসিক বা এন্ট্রি লেভেল স্কিল। আর লেভেল ৩ হলো ইন্টারমিডিয়েট লেভেল যেখানে আপনাকে একটু অ্যাডভান্সড বা সুপারভাইজরি কাজ শেখানো হবে। ভালো ক্যারিয়ারের জন্য অন্তত লেভেল ৩ সম্পন্ন করা সব সময় সেরা। “

 

৪. কত খরচ হতে পারে এই কোর্সগুলোতে?

খরচ প্রতিষ্ঠানের মান এবং কোর্সের মেয়াদের ওপর নির্ভর করে। সাধারণত ৩ মাসের শর্ট কোর্সগুলো ১৫-৩০ হাজার টাকার মধ্যে হতে পারে, আবার ১ বছরের ডিপ্লোমা কোর্সগুলোতে ৫০ হাজার থেকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে।

 

কারিগরি শিক্ষা আজ শুধু একটি বিকল্প নয় বরং সফল ক্যারিয়ারের প্রধান পথ। আপনার হাতের কাজই হবে আপনার আসল পরিচয়। সময় নষ্ট না করে আজই নিজের পছন্দের কোর্সে ভর্তি হয়ে যান।

 

দেখা হবে বিজয়ে।

শুভকামনা রইল।

Leave a Comment