জাপান সরকারের শিক্ষা, সংস্কৃতি, ক্রীড়া, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় (MEXT) কর্তৃক প্রদত্ত ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের এই স্কলারশিপটি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ আর্থিক সহায়তা। বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপান দূতাবাস এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় যৌথভাবে এই প্রক্রিয়াটি পরিচালনা করছে। নিচে এই স্কলারশিপের বিভিন্ন ধাপ, যোগ্যতা এবং আবেদন প্রক্রিয়ার গভীর বিশ্লেষণ তুলে ধরা হলো।




১. স্কলারশিপের আওতায় প্রোগ্রামের ধরন ও আসন বিন্যাস
শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রাথমিক বাছাইয়ের জন্য নির্দিষ্ট সংখ্যক আসন নির্ধারণ করেছে:
- রিসার্চ (মাস্টার্স ও পিএইচডি): ৪০ জন। এটি মূলত যারা জাপানে উচ্চতর গবেষণা বা ডিগ্রি নিতে চান তাদের জন্য।
- আন্ডারগ্র্যাজুয়েট (স্নাতক): ২৫ জন। এটি ৫ বছরের প্রোগ্রাম (১ বছর জাপানি ভাষা শিক্ষা + ৪ বছর মূল কোর্স)। তবে মেডিসিন বা ডেন্টিস্ট্রির জন্য এটি ৭ বছর হতে পারে।
- কলেজ অফ টেকনোলজি (KOSEN): ১৫ জন। এটি মূলত কারিগরি বা ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপ্লোমা সমমানের শিক্ষা
- স্পেশালাইজড ট্রেনিং কলেজ: ০৫ জন। এটি নির্দিষ্ট কারিগরি বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের জন্য।
২. বিস্তারিত শিক্ষাগত যোগ্যতা ও বয়সসীমা
রিসার্চ পর্যায়ের জন্য:
- আবেদনকারীর জন্ম তারিখ অবশ্যই ০২ এপ্রিল ১৯৯২ বা তার পরবর্তী হতে হবে।
- মাস্টার্স বা প্রথম পর্যায়ের ডক্টরাল কোর্সের জন্য স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৬ বছরের শিক্ষা (স্নাতক) সম্পন্ন থাকতে হবে।
- দ্বিতীয় পর্যায়ের ডক্টরাল কোর্সের জন্য ১৮ বছরের শিক্ষা (স্নাতকোত্তর) অথবা স্নাতক পাসের পর অন্তত ২ বছরের গবেষণার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
স্নাতক ও কারিগরি পর্যায়ের জন্য:
- আবেদনকারীর জন্ম তারিখ অবশ্যই ০২ এপ্রিল ২০০২ বা তার পরবর্তী হতে হবে।
- স্নাতক (Undergraduate) এবং স্পেশালাইজড ট্রেনিংয়ের জন্য এইচএসসি বা সমমান পাস হতে হবে। যারা ২০২৬ সালের মার্চের মধ্যে ফলাফল পাবেন, তারাও একাদশ শ্রেণির ফলাফলের ভিত্তিতে আবেদন করতে পারবেন।
- কলেজ অফ টেকনোলজির (KOSEN) জন্য আবেদনকারীকে অন্তত একাদশ শ্রেণি উত্তীর্ণ হতে হবে।
৩. গবেষণার ক্ষেত্রসমূহ (Fields of Study)
স্নাতক পর্যায়ের জন্য দুটি প্রধান বিভাগ রয়েছে:
- সোশ্যাল সায়েন্স অ্যান্ড হিউম্যানিটিস: এর মধ্যে আইন, রাজনীতি, অর্থনীতি, ব্যবসায় প্রশাসন, সাহিত্য, ইতিহাস এবং জাপানি ভাষা উল্লেখযোগ্য।
- ন্যাচারাল সায়েন্স: একে তিনটি উপ-বিভাগে ভাগ করা হয়েছে।
– বিভাগ এ: গণিত, পদার্থবিদ্যা, রসায়ন, ইলেকট্রনিক্স, মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং ও আর্কিটেকচার।
– বিভাগ বি: কৃষিবিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান, খাদ্যবিজ্ঞান ও ফার্মেসি।
– বিভাগ সি: মেডিসিন ও ডেন্টিস্ট্রি।
৪. আবেদন দাখিলের পুঙ্খানুপুঙ্খ পদ্ধতি
এই প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ করতে আপনাকে দুটি পর্যায় পার করতে হবে:
অনলাইন পর্যায় (১২ মে ২০২৬ পর্যন্ত):
- প্রথমে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দিষ্ট লিংকে http://202.4.112.150:3030 প্রবেশ করে প্রাথমিক তথ্যছক পূরণ করতে হবে।
- তথ্য সাবমিট করার পর একটি আইডি বা ট্র্যাকিং নম্বর জেনারেট হবে, যা পরবর্তী ধাপের জন্য অত্যন্ত জরুরি।
হার্ডকপি বা নথিপত্র জমা পর্যায়
- অনলাইন আবেদন শেষে প্রিন্ট করা কপির সাথে সকল একাডেমিক সার্টিফিকেট, মার্কশিট এবং পাসপোর্টের সত্যায়িত কপি যুক্ত করতে হবে।
- খামের উপর স্পষ্টভাবে প্রেরক, প্রাপক (উপসচিব, বৃত্তি ও প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় শাখা), ট্র্যাকিং নম্বর এবং আপনি কোন প্রোগ্রামে আবেদন করছেন তা লিখতে হবে।
- নথিপত্রগুলো সচিবালয়ের ২নং গেট সংলগ্ন অভ্যর্থনা কক্ষের বক্সে ১২ মে ২০২৬ বিকাল ৪টার মধ্যে জমা দিতে হবে।
৫. প্রয়োজনীয় নথিপত্রের চেকলিস্ট
জাপান দূতাবাসের গাইডলাইন অনুযায়ী আবেদনের সাথে নিচের কাগজগুলো প্রস্তুত রাখা বাধ্যতামূলক:
- নির্ধারিত ২০২৭ ফরম্যাটে আবেদন ফরম (Application Form)
- একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট: স্কুল বা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক ইস্যু করা সকল শিক্ষাবর্ষের ফলাফল।
- সুপারিশপত্র (Recommendation Letter): শেষ বিদ্যাপীঠের প্রধান শিক্ষক বা বিভাগীয় প্রধানের কাছ থেকে।
- স্বাস্থ্য সনদ (Medical Certificate): নির্দিষ্ট ২০২৭ ফরম্যাটে রেজিস্টার্ড ডাক্তার কর্তৃক সত্যায়িত।
- ল্যাঙ্গুয়েজ প্রফিসিয়েন্সি: আইইএলটিএস, টোফেল বা জেএলপিটি (JLPT) সনদ থাকলে তা আবেদনের গ্রহণযোগ্যতা বাড়িয়ে দেয়।
৬. নির্বাচন প্রক্রিয়া ও মেন্টর টিপস
প্রাথমিক মনোনয়ন: শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রাপ্ত আবেদনগুলো যাচাই-বাছাই করে একটি শর্টলিস্ট প্রকাশ করবে। এই তালিকাটি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে।
পরবর্তী ধাপ: প্রাথমিকভাবে মনোনীতদের জাপান দূতাবাস কর্তৃক লিখিত পরীক্ষা এবং ভাইভার (ইন্টারভিউ) জন্য ডাকা হবে। ন্যাচারাল সায়েন্সের প্রার্থীদের জন্য গণিত, রসায়ন বা পদার্থবিজ্ঞানের পরীক্ষা দিতে হতে পারে।
রিসার্চ প্রপোজাল: রিসার্চ প্রার্থীদের জন্য একটি গোছানো এবং উদ্ভাবনী রিসার্চ প্ল্যান সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। এটি যেন জাপানের ল্যাবরেটরি বা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান গবেষণার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়।
নথিপত্র যাচাই: কোনো নথিপত্র অসম্পূর্ণ থাকলে বা শর্ত ভঙ্গ করলে আবেদনটি সরাসরি বাতিল হয়ে যাবে। তাই খাম জমা দেওয়ার আগে অন্তত দুইবার সবকিছু মিলিয়ে নিন।
মেক্সট স্কলারশিপ ২০২৭, জাপান সরকারি বৃত্তি আবেদনের নিয়ম, শিক্ষা মন্ত্রণালয় স্কলারশিপ বিজ্ঞপ্তি ২০২৬, জাপানে উচ্চশিক্ষা মাস্টার্স ও পিএইচডি, এমইএক্সটি আন্ডারগ্র্যাজুয়েট স্কলারশিপ, জাপান দূতাবাস বাংলাদেশ স্কলারশিপ গাইড। MEXT Scholarship 2027 Bangladesh, Japanese Government Research Fellowship, SHED Scholarship Notice 2027, Study in Japan Guidelines, MEXT KOSEN Scholarship, Specialized Training College Japan.
পরামর্শ
আপনার আবেদনের প্রতিটি তথ্য যেন স্বচ্ছ এবং নির্ভুল হয় সেদিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিন। জাপানে উচ্চশিক্ষার এই সুযোগটি আপনার বৈশ্বিক ক্যারিয়ার গঠনে বিশাল ভূমিকা রাখতে পারে। শুভকামনা।



